সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি আজ

ডিসেম্বরের মধ্যেই বিএসসির বহরে যুক্ত হবে দুটি জাহাজ

চীন থেকে দুটি নতুন জাহাজ কিনতে হেলেনিক ড্রাই বাল্ক ভেঞ্চারস এলএলসির সঙ্গে আজ একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণায়ের অধীন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)।

চীন থেকে দুটি নতুন জাহাজ কিনতে হেলেনিক ড্রাই বাল্ক ভেঞ্চারস এলএলসির সঙ্গে আজ একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণায়ের অধীন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। চুক্তি স্বাক্ষরের পর এ বছরের মধ্যেই জাহাজ দুটি বহরে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল বিএসসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিএসসি জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রথম জাহাজ আগামী অক্টোবরে এবং দ্বিতীয় জাহাজ ডিসেম্বরে তাদের হস্তান্তর করা হবে। আধুনিক কারিগরি বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিসমৃদ্ধ এ দুটি জাহাজ বহরে যুক্ত হলে বিএসসির নিজস্ব পরিবহনক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডিডব্লিউটি বাড়বে, যা দেশের সমুদ্র বাণিজ্যে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হবে। দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ কেনার বিষয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সুপারিশ গত ১৭ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন করেছেন। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকল্পটি ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য এর ডিডিপি গত ৩ জুন অনুমোদন হয়। এক্ষেত্রে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৬২ কোটি ৬৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

জাহাজ কেনার জন্য গত ৪ জুন আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। প্রস্তাবে গৃহীত জাহাজগুলোর বিভিন্ন কারিগরি বিষয়াদি যাচাই-বাছাই করা হয় এবং মূল্যায়ন কমিটি সরজমিনে জাহাজের নির্মাণ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে। কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়ন-পরবর্তী হেলেনিক ড্রাই বাল্ক ভেঞ্চার এলএলসির প্রস্তাবিত প্রতিটি জাহাজের দাম ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৪৯ হাজার ডলার এবং দুটি জাহাজের মোট সমন্বয়কৃত ও সুপারিশকৃত দাম দাঁড়ায় ৭ কোটি ৬৬ লাখ ৯৮ হাজার ডলারে, যা প্রাক্কলিত মূল্য ৮ কোটি ৪ লাখ ডলারের তুলনায় ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ কম। অনুমোদন অনুসারে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে গত ২৬ আগস্ট নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) ইস্যু করা হয় এবং ২ সেপ্টেম্বর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এনওএ গ্রহণ করে।

মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক হেলেনিক ড্রাই বাল্ক ভেঞ্চার এলএলসির প্রস্তাবিত ৬৩ হাজার ৫০০ ডিডব্লিউটি সক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ দুটি বেশকিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে কেনার জন্য সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি খরচ হ্রাস ও অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি, বাতাসের বাধা কমিয়ে গতি ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত, হাইড্রোডাইনামিক ড্র্যাগ কমিয়ে জাহাজের গতি বৃদ্ধি ও জ্বালানি সাশ্রয়, মূল ইঞ্জিন থেকে নাইট্রোজেন অক্সাইড নিঃসরণ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস, নকশা ও প্রযুক্তিগত সমাধানগুলো জ্বালানি সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানদণ্ডসম্মত, আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থা (অআইএমও) কর্তৃক নির্ধারিত সর্বশেষ পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণ। জাহাজ দুটিতে উচ্চমানের ইউরোপীয় ও জাপানি যন্ত্রপাতি ও উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। মূল ইঞ্জিনটি জার্মান লাইসেন্সে চীনে উৎপাদিত (ম্যান-বিএমডব্লিউ)। পাম্প স্পেনে ও কম্প্রেসার নরওয়েতে তৈরি করা হয়েছে। জাহাজটি চীনে তৈরি করা হলেও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হেলেনিক ড্রাই বাল্ক ভেঞ্চারস এলএলসি যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) বিএসসির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৪ টাকা ৩৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১১ টাকা ৫ পয়সা। আলোচ্য হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৯৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ৪৭ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৯৮ টাকা ৪৯ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে বিএসসির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৬ টাকা ৩৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৬ টাকা ১৫ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১০১ টাকা ৯৭ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে বিএসসির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৬ টাকা ১৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৪ টাকা ৮০ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৮৬ টাকা ৬৭ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে বিএসসি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৪ টাকা ৮০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ৭২ পয়সা। ৩০ জুন ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৭২ টাকা ৫২ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে বিএসসি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৭২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৭২ পয়সা। ৩০ জুন ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকা ২৮ পয়সায়।

১৯৭৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৫২ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৯৩৮ কোটি ৬ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৫ কোটি ২৫ লাখ ৩৫ হাজার ৪০। এর ৫২ দশমিক ১০ শতাংশ রয়েছে সরকারের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২১ দশমিক ৩৪ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ২৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

আরও